ওয়েবসাইট খুলে কিভাবে টাকা আয় করা যায়

প্রিয় পাঠক মন্ডলী আজকে জানবো, বর্তমান সময়ে ওয়েবসাইট খুলে কিভাবে টাকা আয় করা সম্ভব। আদৌ কি ওয়েবসাইট থেকে টাকা আয় করা সম্ভব? এ সম্পর্কে অনেকের মনে অনেক ধরনের চিন্তা ভাবনা ঘুরপাক খায়। তো আজকে মূলত বিষয়টা পরিষ্কারভাবে জানবো।
ওয়েবসাইট খুলে কিভাবে টাকা আয় করা যায়
তো ওয়েবসাইট খুলে কি আয় করা যায় কিনা এবং কোন ওয়েবসাইট থেকে মূলত টাকা আয় করা সম্ভব। এবং ওয়েবসাইট কিভাবে তৈরি করতে হয়। এ সকল বিষয় সহ বিস্তারিত জানতে হলে সম্পূর্ণ পোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়তে থাকুন।

কোন ওয়েবসাইট থেকে টাকা আয় করা যায়

বর্তমান সময়ে ফ্রিল্যান্সিং জগতে অনেকেই প্রবেশ করতেছেন। এবং অনেকেই অনেক জায়গাতে কোর্স করতেছেন ডিজিটাল মার্কেটিং এর। তো বিভিন্ন কোর্সে বিভিন্ন ধরনের নিয়মে তারা মূলত কোর্স করিয়ে থাকে। ডিজিটাল মার্কেটিং এটি হচ্ছে একটি নিশ, এর মধ্যে অনেকগুলো ক্যাটাগরি রয়েছে। 

যার মধ্যে রয়েছে কিনা ফেসবুক মার্কেটিং ইউটিউব মার্কেটিং ইনস্টাগ্রাম মার্কেটিং এবং গুগল এডস মার্কেটিং সহ বিভিন্ন ধরনের অনলাইন মার্কেটিং বা নেটওয়ার্ক মার্কেটিং। তো এর মধ্যেই অন্যতম একটি হচ্ছে ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট। অর্থাৎ ওয়েবসাইট তৈরি করে সেই ওয়েবসাইটে বিজনেস করা বা ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট লিখে, সেখান থেকে আয় করা। 
তো আপনি মূলত কোন ওয়েবসাইট থেকে টাকা আয় করতে পারবেন। তো আপনি যদি যে কোন এক ধরনের নিউজ নিয়ে যদি ওয়েবসাইট তৈরি করেন, তাহলে আপনি ওয়েবসাইট থেকে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। হয়তোবা ওয়েবসাইটের মধ্যে আপনি আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ে কাজ করতে পারেন। এছাড়াও আপনি ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ধরনের কন্টেন্ট পাবলিশ করে, 

সেই কনটেন্ট এর মধ্যে অ্যাড চালু করে সেখান থেকে ইনকাম করতে পারেন। তো ওয়েবসাইট আপনি যেকোনো ধরনের তৈরি করলে সেখান থেকে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। তবে আপনাকে অবশ্যই সেই ওয়েবসাইটের পেছনে সময় দিতে হবে এবং কাজ করতে হবে। তাহলে আপনি সেই ওয়েবসাইট থেকে, অর্থাৎ সেটা যেই ওয়েবসাইট এই হোক না কেন আপনি ইনকাম করতে পারবেন। 

তো আশা করছি জানতে পেরেছেন ওয়েবসাইট থেকে টাকা আয় করা যায় কিনা এ সম্পর্কে। তো এবার চলুন ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপন সম্পর্কে কিছু আলোচনা করা যাক অর্থাৎ গুগল এড সম্পর্কে।

ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপন পদ্ধতি গুলো আলোচনা কর

ওয়েবসাইট থেকে অনেকেই অনেক পদ্ধতিতে ইনকাম করে থাকে। অর্থাৎ অনেকেই বিজনেস এর মাধ্যমে ইনকাম করে, অনেকেই প্রোডাক্ট সেল করে ইনকাম করে। আবার অনেকেই আছে যারা ওয়েবসাইট এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের তথ্য দিয়ে সেখান থেকে ইনকাম করে। তো যারা কিনা ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ধরনের তথ্য দিয়ে অর্থাৎ কনটেন্ট লিখে ইনকাম করে। তারা মূলত কিভাবে ইনকাম করে, এ সম্পর্কে আজকে আলোচনা করব। 

অর্থাৎ ওয়েবসাইটের মধ্যে বিজ্ঞাপন পদ্ধতিগুলো কি কি এ সম্পর্কে আলোচনা করবো। তো ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপন পদ্ধতি হচ্ছে, আপনি যেই ওয়েবসাইট তৈরি করেছেন অর্থাৎ যে ওয়েবসাইটে আপনি আপনার কনটেন্ট গুলো লিখে পাবলিশ করবেন, সেই ওয়েবসাইটের মধ্যেই আপনি গুগল এডস অর্থাৎ বিজ্ঞাপন চালু করে ইনকাম করবেন। 

ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দেখে মূলত আপনি কিভাবে আর্ন করবেন ? এইটা অনেকের মধ্যে প্রশ্ন জাগে। তো ওয়েবসাইটের মধ্যে যে বিজ্ঞাপন গুলো গুগল শো করাবে সে বিজ্ঞাপন গুলোর উপরে আপনার যেই ট্রাফিক গুলা আসবে অর্থাৎ আপনার যেই ভিজিটর গুলা আসবে, তারা মূলত আপনার সেই ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপনের উপরে ক্লিক করবে। 

তো এখানে মূলত এই ক্লিক এর মাধ্যমে ইনকাম হয়ে থাকে। তবে, কিছু কিছু এড রয়েছে যেগুলো গুগল প্রোডাক্ট সেল করার মাধ্যমে এ্যাডগুলো শো করায়। তো ঐ সকল এডগুলোর উপরে যদি আপনার ভিজিটররা ক্লিক করে তাহলে এর মাধ্যমেই আপনার ইনকাম হবে। তো এটাই হল মূলত ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপন পদ্ধতি ওয়েবসাইটের মধ্যে মূলত যে সকল বিজ্ঞাপন গুলো শো হয় এগুলো মূলত গুগল থেকেই দেওয়া হয়ে থাকে।

ওয়েবসাইট কিভাবে তৈরী করতে হয়

কিভাবে আপনি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করবেন ? অনেকেই মনে করেন এই ওয়েবসাইট তৈরি করতে অনেক খরচ হয়ে থাকে। অর্থাৎ কোর্স করা লাগে। ভিজিটর বাড়ানোর জন্য টাকা খরচ করা লাগে। তা এছাড়াও অনেকেই অনেক রকমের ভয় দেখিয়ে 
আরো পড়ুন/জানুনঃ Lg ফ্রিজের দাম 2023
আপনাকে ওয়েবসাইট তৈরি করা থেকে বিরত রাখে। তো আপনি অবশ্যই সে সকল মানুষদের কথা শুনবেন না। আজকে জানবেন যে ওয়েবসাইট তৈরি করতে মূলত কি কি লাগে। তো প্রথমে বলব ওয়েবসাইট মূলত দুই প্রকার হয়ে থাকে, যেমনঃ
  • Blogging Website
  • Wordprees Website
তো আপনি যেকোনো ওয়েবসাইট তৈরি করেই কাজ করতে পারবেন। তবে আপনি যদি ব্লগিং ওয়েবসাইট নিয়ে কাজ করেন তাহলে সেক্ষেত্রে আপনি খুব দ্রুত ইনকাম করতে পারবেন। এবং আপনি নতুন অবস্থায় আপনি কম খরচের মধ্যে ব্লগার ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন। ব্লগার ওয়েবসাইট তৈরি করতে খরচ কম কেন বললাম ? 

এটার কারণ হলো, আপনি যখন ব্লগার ওয়েবসাইট তৈরি করবেন সে ক্ষেত্রে সেই ওয়েবসাইটের জন্য ডোমেইন প্রয়োজন হবে অর্থাৎ সে ওয়েবসাইটটার একটি নামের প্রয়োজন হবে। ডোমেইনের অর্থ হল আপনার ওয়েবসাইটের নাম বা Url তো ব্লগার ওয়েবসাইট তৈরি করতে মূলত আপনার এই ডোমেনটাই খরচ হবে। আর দ্বিতীয়তও যদি আপনি ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট তৈরি করেন, 

তাহলে সে ক্ষেত্রে আপনার ডোমেন কিনতে হবে এবং এর পাশাপাশি আপনাকে হোস্টিং ক্রয় করতে হবে। তো ডোমেইন অর্থ কি এটা আমরা জেনেছি, তাহলে আবার নতুন করে হোস্টিং কোথায় থেকে আসলো? হোস্টিং হলো একটি ওয়েবসাইটের জায়গা, অর্থাৎ একটি ফোনের মধ্যে যেরকম ভাবেই স্টোরিস থাকে বা মেমোরি থাকে, ঠিক সেভাবেই একটি ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট এর মধ্যে জায়গা লাগে। 

আরে জায়গাটার নামই হচ্ছে হোস্টিং। তো ওয়েবসাইট তৈরি করতে মূলত আপনার প্রয়োজন হবে একটি ডোমেন এবং একটি হোস্টিং। আর তাছাড়া আপনার কোন খরচ হবে না। এই দুইটা সাহায্যে আপনি খুব সহজেই একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন। তো আশা করছি জানতে পেরেছেন ওয়েবসাইট মূলত আপনি কিভাবে তৈরি করবেন। এছাড়াও ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে আরো কিছু তথ্য জানতে হলে এই পোস্টটা দেখতে পারেন কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং একাউন্ট খুলব - ফ্রিল্যান্সিং কি

ওয়েবসাইট হোস্টিং এর প্রকারভেদ

হোস্টিং মূলত কি এ সম্পর্কে আশা করছে জানতে পেরেছেন। তবুও আরো একবার হস্টিং সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে দেওয়া হল। হোস্টিং মূলত একটি স্পেস বা জায়গা। যার মধ্যে কিনা আপনার ওয়েবসাইটের সকল তথ্য বা কুকিজ গুলো জমা থাকবে। এবং এই ওয়েবসাইটের হোস্টিংয়ের কিছু প্রকারভেদ রয়েছে। তো সেই প্রকারভেদ গুলো হলো,
  1. ভিপিএস হোস্টিং
  2. ডেডিকেটেড সার্ভার
  3. রিসেলার হোস্টিং
  4. শেয়ার্ড হোস্টিং
ভিপিএস হোস্টিংঃ VPS হোস্টিং এটি মূলত এই সার্ভারের একটি হোস্টিং। যেখানে কিনা আপনারা খুব ফাস্টলি আপনার ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে পারবেন এবং এটি আপনার ওয়েবসাইটের জন্য হবে খুব বেশি সিকিউর। তো আপনারা চাইলেই vps hosting ব্যবহার করতে পারেন আপনার ওয়েবসাইটের সিকিউর এর জন্য।

ডেডিকেটেড সার্ভারঃ এটি মূলত এমন একটি সার্ভার বা হোস্টিং, যেখানে আপনার পুরো সার্ভার কারো সাথে শেয়ার না করে আপনি কাজ করবেন এটাকেই বলা হয় ডেডিকেটেড সার্ভার বা হোস্টিং। অর্থাৎ এক কথায় বলা যায় যেখানে আপনি শুধু একাই কাজ করতে পারবেন অর্থাৎ আপনি একমাত্র ইউজার হবেন। একেই বলা হয় ডেডিকেটেড হোস্টিং বা সার্ভার।

রিসেলার হোস্টিংঃ রিসেলার হোস্টিং বলতে ওই হোস্টিংকে বোঝানো হয় যখন আপনি কোন একটি কোম্পানি থেকে হোস্টিং ক্রয় করবেন। এবং সেই প্যাকেজটি আপনি কাস্টমাইজ করে যখন অন্যদের কাছে বিক্রয় করবেন তখন সেটাকে বলা হয়ে থাকে রিসেলার হোস্টিং।

শেয়ার্ড হোস্টিংঃ শেয়ার্ড হোস্টিং মূলত ঐ সকল হোস্টিং কে বোঝানো হয়, যে সকল hosting একটি সার্ভারের রিসোর্স থেকে একাধিক ইউজার ব্যবহার করে থাকে। তখন ওই সকল হোস্টিং কে বলা হয়ে থাকে শেয়ার্ড হোস্টিং। আর একাধিক ইউজার ব্যবহার করে এ সকল hosting এর দাম মূলত অনেকটা কম হয়ে থাকে। 

তাছাড়া অনেক বড় বড় যেসকল কোম্পানিগুলো রয়েছে হোস্টিং কোম্পানি তারা শেয়ার-ডস্টিং মূলত অনেক সময় ফ্রিতেই দিয়ে থাকে।তো আশা করছি হোস্টিং এর প্রকারভেদ এবং হোস্টিং কি এ সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানতে পেরেছেন।

একটি ওয়েবসাইটের কয়টি অংশ থাকে

একটি ওয়েবসাইটের মূলত কয়টি অংশ থাকে এ সম্পর্কে অনেকেই জিজ্ঞাসা করেছেন? একটি ওয়েবসাইটের মূলত তিনটি অংশ হয়ে থাকে।
  • হোম পেইজ সেকশন
  • সাইড বার সেকশন
  • ফোটার সেকশন
তো একটি ওয়েবসাইটের এই তিনটি সেকশন থাকে। তো আপনি যখন একটি ওয়েবসাইট তৈরি করবেন তখন অবশ্যই আপনাকে এই তিনটি সেকশন ভালোভাবে কাস্টমাইজ করতে হবে। আর এই সকল সেকশনগুলোর কাস্টমার করবেন আপনি মূলত লেআউট থেকে। কেননা এই তিনটি সেকশন মূলত আপনার ভিজিটররা প্রবেশ করে থাকে বা দেখে থাকে। তো আশা করছি একটি ওয়েবসাইটের কয়টি অংশ থাকে সম্পর্কেও জানতে পারলেন।

উপসংহার

একটি ওয়েবসাইট খুলে কিভাবে টাকা আয় করা যায় এবং ওয়েবসাইট কিভাবে তৈরি করে এবং এর পাশাপাশি একটি ওয়েবসাইটের মূলত কয়টি অপশন থেকে থাকে। এই সকল বিষয় সম্পর্কে আশা করছি উপরের পোস্টটি পড়ে আপনারা জানতে পেরেছেন। 
সুতরাং পোস্টটি পড়ে যদি আপনারা এতটুকু উপকৃত হয়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানিয়ে দিবেন। এবং অবশ্যই আমাদের পেজটি সাবস্ক্রাইব করে রাখবেন। যেন নতুন নতুন তথ্য আপনারা সহজে পেতে পারেন। তো আজকের মত এখানেই শেষ করছি সকলেই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন, ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ব্লগার জাফর সাহেবের নিতিমালা মেনে কমেন্ট করুন

comment url