রুহ আফজা দাম - রুহ আফজা খাওয়ার নিয়ম

প্রিয় পাঠক আজকে আলোচনা করব রুহ আফজা খাওয়ার উপকারিতা কি এ সম্পর্কে। রুহ আফজা এটি এক ধরনের পুষ্টিকর শরবত। যে শরবতটা খেলে কিনা মানুষের সকল ধরনের ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। তো চলুন জেনে নেওয়া যাক খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে।
রুহ আফজা খাওয়ার উপকারিতা - রুহ আফজা খাওয়ার নিয়ম
সুতরাং রুহ আফজা খাওয়ার উপকারিতা সহ এটি খেলে কি হয় এবং শরীরের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে কিনা? এ সকল বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে জানতে হলে আমাদের আজকের এই পোস্টটি সম্পূর্ণটা মনোযোগ দিয়ে পড়তে থাকুন।

ভূমিকা

রুহ আফজা মূলত এমন এক ধরনের শরবত যা কিনা আপনি যে কোন সময় খেতে পারবেন। অর্থাৎ এটি হচ্ছে একটি শরবত। বিশেষ করে দেখা যায় অনেকেই রমজান মাসে রুহ আফজা এর শরবত খেয়ে থাকেন। আসলে এটি শুধু রমজান মাসে নয় এটি আপনি ১২ ভাই আমিওমাসি খেতে পারবেন কারণ এটি এমন এক ধরনের শরবত। 
যা কিনা আপনার সকল ধরনের ক্লান্তি এবং শরীরের এনার্জি ফিরিয়ে দেয়। আপনি সারাদিন হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে এসে যদি রাত্রে এক গ্লাস প্রভাব জায়ের শরবত খেতে পারেন তাহলে দেখবেন আপনার শরীরে সকল ধরনের ব্যথা এবং সকল দুর্বলতা কেটে গেছে। তো চলুন নিম্নের বিস্তারিতভাবে জেনে নেই রব্জা খাওয়ার উপকারিতা সহ বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে।

রুহ আফজা খাওয়ার উপকারিতা

প্রতিবছর রমজানে এলেই আমাদের রুহ‌ আফজা খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায় । রমজানে আমরা সাধারণত ইফতারের পর রুহ আফজার শরবত বানিয়ে খায় ।এতে অনেক তৃপ্তি পাওয়া যায়। রমজানের সময় ইফতারের পরে রুহ আফজা খাইলে শারীরিক দুর্বলতা কমে যায়। রুহ আফজা আমাদের শরীরের দুর্বলতা কমিয়ে শারীরিকভাবে সুস্থ রাখে। তাহলে চলুন এখন জেনে নেয়া যাক এই রুহ আফজা খাওয়ার উপকারিতা কেমন বা কি কি- 
 
রুহ আফজা আমাদের শরীরের হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে অতি সহায়তা করে। সারাদিন রোজা রাখার পর অথবা অনেকক্ষণ কিছু না খেয়ে থাকার পর রুহ আফজা খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে আবার হজমের সমস্যা থেকেও পরিত্রাণ পাওয়া যায়। এখন এই করার রোদে রোজা রাখার ফলে দেহে পানি শুন্যতা আসতে পারে, 
 
কিন্তু এই রমজান এ রুহ আফজার শরবত বানিয়ে খেলে শরীরের পানি শূন্যতা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। তাই ইফতারের ঠান্ডা শরবত খাওয়ার ক্ষেত্রে রুহ আফজার কোন বিকল্প নেই। সাধারণত রুহ আফজা সিরাপ আকারে বিক্রয় করা হয়। তবে এর সাথে পানি বা দুধ বা বরফ মিশিয়ে শরবত করে খাওয়া হয়। 
 
অতিরিক্ত গরমে ঠান্ডা প্রশান্তির জন্য রুহ আফজা আমাদের অনেক সাহায্য করে। রুহ আফজা বিশুদ্ধ ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ পানীয় বা শরবত। এটি আমাদের শরীর ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি শরীরে শক্তি যোগান দেয়। তাই আমাদের শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে রুহ আফজা অনেক সহায়তা করে।

রুহ আফজা খেলে কি হয়

অতিরিক্ত গরমে শরীরের শক্তি পাওয়ার জন্য এবং পানি শুন্যতা দূর করার জন্য ভিটামিন ও মিনারেল যুক্ত পানীয় বা শরবত আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়। রুহ আফজা খেলে আমাদের শরীরের পানিশূন্যতা দূর হবে , শরীরে শক্তি বৃদ্ধি পাবে , একঘেয়েমিতা হবে দূর হবে। 
রুহ আফজা খাওয়ার উপকারিতা - রুহ আফজা খাওয়ার নিয়ম
রমজান মাসে নিয়ম করে প্রতিদিন রুহ আফজা খেলে শরীরের ক্লান্তি দূর হয়। সারাদিন কাঠ পোড়ানো রোদে পড়ে শরীরকে প্রশান্তি দেওয়ার জন্য রুহ আফজা খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। রুহ আফজা আমাদের শরীরের রক্ত সরবরাহ মসৃণ করে এবং হৃদ যন্ত্রের ক্রিয়া ঠিক রাখে।
  1. ​রুহ আফজা শরীরের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে।
  2. ​এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম ম্যাগনেসিয়াম পটাশিয়াম ও সালফার যা শরীরের পানি শূন্যতা দূর করতে সহায়তা করে।
  3. ​রুহ‌ আফজা হৃৎযন্ত্রের কার্যালাপ ঠিক রাখে।
  4. ​রুহ আফজা কার্ডিয়াক পেশিকে মসৃণ করে।
  5. ​শরীরের তাপমাত্রা রোধ করতে এবং বদহজম কমাতে সহায়তা করে।

রুহ আফজা বানানোর নিয়ম

রুহ আফজা সাধারণত রমজান মাসে বেশি খাওয়া হয়।রুহ আফজা আমাদের অনেকেরই খুবই প্রিয় । রুহ আফজা সাধারণত সারাদিন রোজা রাখার পর রমজান মাসে শরবত হিসেবে পান করা হয়। রুহ আফজা শরবত সাধারণত দুধ এবং বরফের সংমিশ্রণে তৈরি করা হয় ।তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক কিভাবে আমরা রুহ আফজা বানাবো।
রুহ আফজা বানানোর জন্য উপকরণগুলো হলো-
  • ​ঠান্ডা পানি বা দুধ
  • ​রুহ আফজা সিরাপ
  • ​ছোট ছোট বরফ খন্ড
প্রস্তুত প্রণালীঃ
একটি গ্লাসের মধ্যে ঠান্ডা পানি বা দুধ নিয়ে তার মধ্যে রুহ আফজা সিরাপ পরিমাণ মতো দিয়ে চামচ দিয়ে নেড়ে নিয়ে ছোট ছোট বরফ খণ্ডগুলো দিয়ে দিলেই তৈরি হয়ে গেল রুহ আফজা শরবত।

রুহ আফজা খাওয়ার নিয়ম

সাধারণত রমজান মাসে সারাদিন রোজা রাখার পরে ইফতারের সময় রুহ আফজা খাওয়া হয়। রুহ আফজা আমাদের শরীরের সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে সহায়তা করে এবং আমাদের শরীরের পানি শূন্যতা দূর করে। রমজান মাস ছাড়াও গ্রীষ্মকালে তীব্র রোদে আমরা বাহিরে থেকে আসলেও শরবত বানিয়ে খেতে পারি। 
এটা আমাদের শরীরের ক্লান্তি দূর হবে হার্ট ভালো থাকবে ,ভালো মতো কাজ করতে পারবেন। রমজান মাস ছাড়াও আমরা গরমকালে দুপুরে ও রাতে দুইবার করেও রুহ আফজা শরবত খেতে পারি। আবার এমন অনেকে আছে যারা রুহ আফজার শরবত খেতে পারেন না। 
 
তারা দুধ ,পুদিনা পাতা ,সাইট্রিক এসিড আরো অনেক কিছু দিয়ে শরবত বানিয়ে খেতে পারেন ।রুহ আফজা আমাদের শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে বিশেষ করে রমজান মাসে আমাদের রুহ আফজার চাহিদাটা বেশি থাকে কারণ সারাদিন রোজা রাখার পরে রুহ আফজার শরবত খেলে শরীরে প্রশান্তি আসে।

রুহ আফজা দাম কত

আমাদের মনে অনেক সময় প্রশ্ন আসে যে রুহ আফজার দাম কত ? তাহলে চলুন আজকে জেনে নেওয়া যাক আসলে দাম কত।
রুহ আফজা দাম
  • ৩০০মিলি =  ২৮৯ ৳
  • ৮০০মিলি = ৭৫০৳
  • ৭৫০ মিলি = ৫৩৯ ৳
তো এই দামগুলোর মধ্যে আপনারা বাজারে রুহ আফজা পেয়ে যাবেন। সুতরাং আপনারা যদি রুহ আফজা কিনতে চান, তাহলে অবশ্যই দোকানে গিয়ে এই নামগুলো দিয়ে রুহ আফজা কিনতে পারবেন।

শেষ কথা: রুহ আফজা খাওয়ার উপকারিতা

প্রিয় পাঠক মন্ডলী আমাদের আজকের এই পোস্টটি পড়ে আপনারা আশা করি জানতে পেরেছেন রুহ আফজা খাওয়ার উপকারিতা কী ? এবং খাওয়ার নিয়ম এবং এটি খেলে আপনার কি কি উপকারিতা লাভ করতে পারবেন এই সকল বিষয়ে এবং এর পাশাপাশি রুহ আফজা এর দাম সম্পর্কে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং আমাদের আজকের এই পোস্টটি পড়ে যদি আপনারা উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই কমেন্টের মন্তব্য করে জানিয়ে দিবেন। এবং আমাদের পোস্টটি শেয়ার করে দেবেন যেন অন্যরাও এটি পড়ে উপকৃত হতে পারে। আজকের মত এখানেই শেষ করছি, ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ব্লগার জাফর সাহেবের নিতিমালা মেনে কমেন্ট করুন

comment url