শীতকালীন ফুলের নামের তালিকা - ৫টি শীতকালীন ফলের নাম

শীতকালীন ফলের উপকারিতা কি এবং শীতকালীন ফুল সম্পর্কে আমাদের প্রায় প্রত্যেকেরই জানার চাহিদা রয়েছে। শীতকালীন ফলের উপকারিতা কি এবং ৫টি শীতকালীন ফলের নাম সম্পর্কে চলুন জেনে আসি।
শীতকালীন ফলের উপকারিতা - শীতকালের ফুলের নাম
তো আজকে জানবো শীতকালীন ফলের উপকারিতা সম্পর্কে এবং এর পাশাপাশি পাঁচটি শীতকালীন ফলের নাম এবং দশটি শীতকালীন সবজির নাম এবং এর পাশাপাশি শীতকালীন ফলের উপকারিতা কি বা শীতকালীন সবজির উপকারিতা কি এ সম্পর্কে। তো এই সমস্ত বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে পুরো পোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়তে থাকুন।

৫টি শীতকালীন ফলের নাম

শীতকাল এটি মূলত এমন একটি সময় যে সময় বিভিন্ন রকমের ফল আমরা গাছে দেখতে পাই। তো শীতকালীন মূলত বিভিন্ন ফলের বিভিন্ন রকমের উপকারিতা রয়েছে। আমরা শীতকালে প্রচুর রকমের ফল খেয়ে থাকি যেগুলা খেতে আমাদের খুব মজা লাগে এবং যেগুলো খেতে খুব সুস্বাদু। 
তো আজকে আপনাদের সামনে এরকমই ৫ টি শীতকালীন ফল এর নাম সহ এর গুনাগুন তুলে ধরবো। আশা করি এগুলো সকলেই আপনারা জানবেন এবং এর পাশাপাশি এগুলা খাবেন। চলুন জেনে আসি তাহলে নিম্নে সেই ৫ টি শীতকালীন ফলের নাম সম্পর্কে।

আমলকি
আপনারা হয়তো আমলকি এই ফলটার নাম সকলেই কম বেশি শুনেছেন। কিন্তু অনেকে আছে ফলটা খান নাই,আবার অনেকে আছে যারা কমবেশি খেয়েছেন। শীতকালীন ফল গুলোর মধ্যে আমলকি হচ্ছে অন্যতম একটি সুস্বাদু ফল। ছোটবেলাতে আমরা সকলেই কমবেশি দুষ্টুমি করে খেতাম তখন দেখা যেত আমাদের মুখ মিষ্টি হয়ে যায়। 

আর তখনকার সময় এটি অনেক মানুষ ভর্তা করেও খেয়েছে কারণ তখন ভর্তা করে খাওয়ার প্রচলন ছিল আমলকি। আবার অনেকেই ডালের সাথে আমলকি খান। আর তাছাড়া আমলকি হচ্ছে এমন একটি উপকারী জিনিস বা খাদ্য যা কিনা আপনি যেভাবে খান না কেন এটা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হবে। 

কেননা আমলকি খেয়ে বলা হয়েছে যে ভিটামিন সি এর এক ধরনের রাজা। আর এই ভিটামিন সি জাতীয় খাদ্যটা অর্থাৎ আমলকি এটি আমাদের ত্বকের সুরক্ষা এবং এর পাশাপাশি আমাদের মারিকে মজবুত করতে এবং ক্যান্সার প্রতিরোধ করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

জলপাই
আমরা সকলেই জানি জলপাই হচ্ছে শীতকালীন একটি খুবই জনপ্রিয় এক ধরনের ফল। আর আচার হিসেবে তো এটা আমরা কমবেশি তাই সকলেই খেয়েছি কারণ এটি গ্রাম অঞ্চলে প্রায় সব সময় এটা বেচাকেনা হয়ে থাকে। আপনি কি জানেন যে জলপাই এবং এর পাতার মধ্যে দুটি ভীষণ উপকারী জিনিস রয়েছে। জলপাই হচ্ছে এক ধরনের টক জাতীয় খাদ্য বা ফল। 

এটি ভিটামিন সি এ এবং ভিটামিন ই বিদ্যামান ফলটার মধ্যে। এই সমস্ত ভিটামিন গুলো যেগুলা জলপাইয়ের মধ্যে রয়েছে এগুলা আমাদের শরীরের বিভিন্ন রকমের রোগ জীবাণুকে ধ্বংস করে, এছাড়াও এটি আমাদের শরীরের উচ্চ রক্তচাপকে অনেকাংশে কমিয়ে দেয় এবং এটা আমাদের শরীরের মধ্যে চর্বি জমে যাওয়ার সম্ভাবনাকে বাধা দান করে। 

তাছাড়া এটি আমাদের হৃদপিন্ডের জন্য খুবই উপকারী কারণ এটি বক্তব্য হওয়া করতে অর্থাৎ হৃদপিন্ডের রক্ত প্রবাহকে চলাচল রাখে। আর এই জলপাই খাওয়ার কারণে এটি আমাদের হৃদপিণ্ড থেকে যে রক্ত পরিষদ দিতে হয় এটি মস্তিষ্ক গিয়ে পৌঁছায় এবং মস্তিষ্কের কার্য ক্ষমতাকে আরও বেশি বৃদ্ধি করে তোলে। 

আর তাছাড়া জলপাইয়ের যে খোসা আছে, এই খোসার মধ্যে রয়েছে যা কিনা আমাদের শরীরের মধ্যে রাফেজ এর কাজ করবে। অর্থাৎ এটি আমাদের শরীরে কোষ্ঠকাঠিন্য কে দূর করে দিবে। এমনকি এটি আমাদের ত্বকের উজ্জ্বলতাকে বাড়িয়ে দেবে এবং এর পাশাপাশি কোলনের পাকস্থলীতে যে ক্যান্সার হয় এটি দূর করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকে।

ডালিম
ডালিম কমবেশি প্রায় আমাদের সকলের কাছেই খুব প্রিয় একটি খাদ্য আর যা কিনা শীতকালীন ফল। তাছাড়া ডালিম ভাই সারা বছরই বাজার ঘাটে বিক্রি হয়ে থাকে। অর্থাৎ বাজারে ডালিম সারা বছরই পাওয়া যায়। কিন্তু শীতের মধ্যকার যে ডালিমগুলা পাওয়া যায় এগুলোর মধ্যে একটি আকর্ষণীয় স্বাদ থাকে। অনেকেই এই ডালিমকে বেদানা বলেও ডেকে থাকে। 

অর্থাৎ একেক জায়গায়, একেক রকমের নাম। আর ডালিম এর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম যা কিনা আপনার লিফ যন্ত্রকে সুস্থ রাখে এবং এর পাশাপাশি আপনার যদি রক্তচাপ থাকে। অর্থাৎ আপনার যদি উচ্চ রক্তচাপ থাকে এটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কেননা ডালিম এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন সি।

সফেদা
সফেদা কম বেশি এই ফলটির নাম আমরা অনেকেই শুনেছি আসলে এটি দেখতে অনেকটা সুন্দর না হলেও। এই ফল টি নানা গুনে গুণান্বিত। সফেদার মধ্যে রয়েছে ভিটামিন এ ভিটামিন বি কমপ্লেক্স এবং এর পাশাপাশি রয়েছে ভিটামিন সি। যা কিনা আপনার শরীরের ভিটামিন এ" এটি আপনার চোখ এবং ত্বক এর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

এবং ভিটামিন সি হচ্ছে হাড়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ কেননা এটি আপনার ইমিউনিটিকে বাড়িয়ে তোলে। এবং এই ফলটি যদি আপনি নিয়মিত খান তাহলে এটি আপনার ত্বক এবং চুল এর পাশাপাশি দাঁত কেউ অনেকটা বেশ মজবুত করে তুলবে। তাছাড়া আপনি যদি পাকা সপেদা খান এটির মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম কপার এবং আয়রন রয়েছে। 

যেগুলা কিনা আপনার মেটাবলিক ফাংশন কে ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাছাড়া সফিদার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে খাইবার যা কিনা আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করবে এবং এর পাশাপাশি সোফিদা আপনার ক্যান্সার দূর করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এবং সফেদা মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমানে আপনার ব্লাড এবং সুগারকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করবে।

বরই
বরই এই ফলটা কম বেশি আমাদের সকলের কাছে প্রিয়। আর তাছাড়া শীতকালীন একটি জনপ্রিয় ফল। তাছাড়া বরই অনেক সময় নানা ধরনের হয়ে থাকে। যেমন ধরেন, কুল বরই আপেল বরই, নারকেল বরই এছাড়াও রয়েছে বাউ বরই। এই বরই অনেকেই অনেক রকম ভাবে খেয়ে থাকে কেউ আচার হিসেবে খায় কেউ ভর্তা বানিয়ে খায় আবার অনেকেই কাঁচা বরই ও খেয়ে থাকে। 

আপনি যদি বড়ই খেতে পারেন এটি আপনার শরীরের জন্য অনেকটা স্বাস্থ্য করি হবে। বড়ই যদি আপনি খান এতে করে আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে হৃদরোগ দূর হবে এবং আপনার যদি মাথা ব্যাথা কিনা আমার বাসায় হয় এক্ষেত্রে বরই খাওয়ার ফলে এটি খুব তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে যাবে।

তো আশা করি শীতকালীন পাঁচটি ফলের নামসহ এর গুনাগুন কি কি রয়েছে এ সম্পর্কে জানতে পেরেছেন অর্থাৎ শীতকালীন ফলের উপকারিতা কি জানতে পেরেছেন

শীতকালীন ফুলের নাম

ফুল কমবেশি আমাদের প্রত্যেকটা ব্যক্তির খুবই প্রিয়। তো ফুল হওয়ারও এমন কিছু সময় রয়েছে প্রত্যেকটা ঋতুতে প্রত্যেক রকমের ফুল গাছে ধরে থাকে। তো সেরকমভাবে শীতকালীন কিছু ফুল রয়েছে যেগুলা ফুলগুলা দেখতে অনেক সুন্দর। তো চলুন এমন কিছু শীতকালীন ফুলের নাম জেনে আসি। শীতের প্রত্যেকটা দিনই এমন এমন সুন্দর ফুল ধরে যায় কিনা আমাদের সকলের চোখে ধরে থাকে। 

আর তাছাড়া শীতের দিনের যে সকল ফুল গুলা রয়েছে বা ফুলগুলা ফোটে এ সকল ফুলগুলো সংখ্যায় অনেক হয় অনেক। আর যদিও এ সকল ফুলগুলোর মধ্যে প্রায় ফুলগুলাই হচ্ছে বিদেশি ফুল। আর এ সকল ফুলগুলো শুধু সংখ্যার দিক দিয়ে বেশি নয় এগুলোর রূপ এবং বৈচিত্রের দিক দিয়েও প্রায় অনেকটা মুগ্ধ করার মত। যেমনঃ
  1. বড় বড় ইনকা গাঁদা ফুল।
  2. দেশী গাঁদা ফুল।
  3. ছোট ছোট চায়না গাঁদা ফুল।
  4. রক্ত গাঁদা ফুল।
  5. হলুদে লাল মিশানো জাম্ব গাঁদা ফুল।
এছাড়াও রয়েছে নানা রকমের গাঁদা ফুল এগুলো প্রায় শীতকালীন সময়ে বেশিরভাগ হয়ে থাকে। এছাড়াও রয়েছে,
  • চন্দ্রমল্লিকা ফুল
  • ডালিয়া ফুল
  • স্টার ডেইজি ফুল।
  • কসমস ফুল।
  • সিলভিয়া ফুল।
  • নেস্টারশিয়াম ফুল।
  • পেনজি এবং ডাইনাস ফুল।
  • ভারবেনা ফুল
  • কারনেশান ফুল।
  • সূর্যমুখী ফুল।
  • ক্যালেন্ডুলা ফুল।
  • গ্ল্যডিওলাস ফুল।
  • ডালিয়া ফুল।
  • চন্দ্রমল্লিকা ফুল।
এছাড়াও শীতকালীন বিভিন্ন রকমের সুগন্ধি ফুল রয়েছে যা কিনা আপনি আপনার বাসবির বাগানে লাগাতে পারেন। তো আশা করছি শীতকালীন ফলের উপকারিতা বা নাম এর পাশাপাশি শীতকালীন কিছু ফুল এর নামও জানতে পারলেন।

শীতকালীন সবজির নাম

আবহাওয়া এবং জলবায়ুর প্রভাব অনুসারে বাংলাদেশ মূলত ৬ ঋতুর দেশ। তো এই .৬ ঋতুর পরিবর্তন হতে হতে, চলে আসে আমাদের মাঝে শীতকাল। তো এই শীতকালীন বিভিন্ন রকমের সবজি রয়েছে যেগুলো খেতে অনেক সুস্বাদু এমনকি যেগুলার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি এবং অনেক গুনাগুন। তো শীতকালীন কিছু সবজির নাম এবং এর পাশাপাশি তার কি কি গুনাগুন রয়েছে এ সম্পর্কে চলুন বিস্তারিত জেনে আসি।
শীতকালীন সবজির নামের তালিকাঃ
  • ফুলকপি।
  • টমেটো
  • গাজর
  • ব্রকলি
  • পালং শাক
  • মুলা
  • বাঁধাকপি
  • সিম
  • ধনেপাতা
শীতকালীন এ সকল শাকসবজিগুলো যদি আপনি প্রয়োজনমতো খেতে পারেন তাহলে এটি আপনার শরীরের বিভিন্ন রকমের পুষ্টি উপাদান গুলো পূরণ করে দিবে এবং এর পাশাপাশি ভিটামিন এবং মিনারেলসের চাহিদা ও পূরণ করে দিবে। তো চলুন এবার জেনে আসি এ সকল সবজিগুলোকে গুনাগুন সম্পর্কে।
ফুলকপি
শীতকালীন সবজি গুলার মধ্যে ফুলকপি হচ্ছে অন্যতম একটি সুস্বাদু সবজি। ফুলকপির মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ ভিটামিন বি এবং ভিটামিন সি। এছাড়াও ফুলকপির মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন পটাশিয়াম ফসফরাস এবং সালফার। তাছাড়া আপনি যদি প্রত্যেকদিন সবজিতে ফুলকপি খান তাহলে এটি আপনার শরীরে আয়রনের উচ্চমাত্রা করে তুলবে। 

এটা আপনার শরীরের রক্ত তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাছাড়া যদি কোন গর্ভবতী মা কিংবা বাড়ন্ত শিশুদের অতিরিক্ত যদি শারীরিক িক পরিশ্রম হয়ে যায় এরকম কোন ব্যক্তিদের যদি কোন কপি খাওয়ানো যায় তাহলে এটি তাদের জন্য খুবই উপকারী হবে। আর ফুলকপির মধ্যে জানেনই যে, কোন চর্বি বা ক্ষতিকর কোন কিছু নেই। 
শীতকালীন ফলের উপকারিতা - শীতকালের ফুলের নাম
তাছাড়া আপনি যদি নিয়মিত ফুলকপি খান শীতের মধ্যে তাহলে এটি আপনার শারীরিক বৃদ্ধি এবং বর্ধন করতেও খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকবে। আপনি যদি শীতকালীন এই সবজিটা খান তাহলে এটি আপনার মূত্রথলী প্রোটেস্ট এবং ডিম্বাশয় ক্যান্সার, এর পাশাপাশি বিভিন্ন রকমের ক্যান্সার কে দূর করতে সাহায্য করবে। 

তাছাড়া শীতকালীন এই সবজিটা যদি খেতে পারেন তাহলে এটি আপনার শরীরের মধ্যকার যত ভিটামিন সি এর ঘাটতি রয়েছে সকল ঘাটতি কে থেকে পূরণ করে দিবে। এজন্য আমাদের প্রায় সকলরে শীতকালীন এইসবজিটি খাওয়া খুবই উপকারী।

টমেটো
টমেটো শীতকালীন একটি জনপ্রিয় ফল। যার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি অর্থাৎ ক্যালরি দিয়ে ভরপুর এই টমেটোর মধ্যে। এছাড়াও রয়েছে ভিটামিন সি। আপনি যদি নিয়মিত কাজা টমেটো খান তাহলে এতে করে আপনার শরীরের মধ্যে এমন কিছু পরিবর্তন হবে, যেমন ধরেন আপনার ত্বক সুন্দর হয়ে যাবে ফুলের রুক্ষ ভাব দূর হয়ে যাবে এবং ঠান্ডা জনিত যে কোন রোগ ভালো হয়ে যাবে। 

তাছাড়া টমেটো খেলে এটি আপনার চর্ম রোগ সহ বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করবে। তাছাড়াও টমেটোর মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আপনার ক্ষতিকর প্রকৃতির আলট্রা ভায়োলেট রশ্মির বিরুদ্ধে লড়াই করে থাকে।

গাজর
গাজর শীতকালীন অন্যান্য সবজি গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর আজযুক্ত সবজি বা খাবার। এখন বর্তমানে এই শব্দটি প্রায় সারা বছরই পাওয়া যায় বিভিন্ন অঞ্চলে। এসব যদি আপনি সালাত করে খেতে পারেন কিংবা কাঁচা খেতে পারেন রান্না করে খেতে পারেন। এটি যদি আপনি নিয়মিত খেতে পারেন তাহলে এটি আপনার শরীরের মধ্যকার সকল ক্যান্সার সহ,

কোষ্ঠকাঠিন্যসহ বিভিন্ন রকমের রোগ দূর করে দিবে। এছাড়াও যদি আপনি গাজর খেতে পারেন নিয়মিত তাহলে এটি আপনার ত্বকের মধ্যকার খসখসে ভাব রোদে পড়া ভাব, সকল কিছু দূর করে দিবে অর্থাৎ এটা আপনার ত্বকের মরা কোষ গুলোকে দূর করে উজ্জ্বল কোষ তৈরি করে দিবে।

ব্রকলি
এটি একটি শীতকালীন সবজি এটি কম বেশি অনেকে খায় অনেকে খায় না, অর্থাৎ এটি কপি জাতীয় এক ধরনের সবজি। এটি বিশেষ করে গ্রাম অঞ্চলে বেশি চাষ হয়ে থাকে। আপনি যদি গ্রুপ লিখে খেতে পারেন তাহলে এটা আপনার শরীরের মধ্যকার আয়রন ক্যালসিয়াম এর ঘাটতি পূরণ করে দিবে। আর এটি খুবই অত্যন্ত সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর খাবার। এটি আপনার রাতকানা রোগও দূর করে দিতে পারে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে তোলে এবং এর পাশাপাশি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে দেয়।

পালং শাক
পালং শাক হচ্ছে উচ্চমাত্রার এক ধরনের পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার। যা কিনা বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এর ভরপুর। এটি আপনার শরীরের মধ্যকার ক্যালসিয়াম ফলিক এসিড আয়রন এর সকল ঘাটতি পূরণ করে দেবে। তাছাড়াও এটি আপনার আর্থাইটিস অস্টিওপোরোসিস সহ বিভিন্ন রকমের রোগ প্রতিরোধ করবে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে দেবে। এবং এটা আপনার ক্যান্সার জাতীয় সকল রোগ দূর করে দিবে। 

এছাড়াও পালং শাকের মধ্যে থাকা ক্যারোটিনঅয়েডস, শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রটেস্ট ক্যান্সার এবং এর পাশাপাশি অভারিয়ান ক্যান্সারকে দূর করতে সাহায্য করে থাকে। তাছাড়া পালং শাক আপনার শরীরের হাড়কে মজবুত করতে সাহায্য করে থাকে এবং আপনার মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও এর ভূমিকা অপরিসীম

মুলা
শীতের আরেকটি অন্যতম পরিচিত সবজির নাম হল মুলা। এই মূলা আপনি কাঁচা এবং রান্না উভয় অবস্থায় খেতে পারেন। কারণ এর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ উৎস। তাছাড়া আপনি মুলার পাতা যদি খান অর্থাৎ মুলার শাক যদি খান এক্ষেত্রে আপনার ছয় গুন বেশি ভিটামিন আপনার শরীরের প্রবেশ করবে। 

এমনকি নিয়মিত খাওয়ার ফলে এটি আপনার ক্যান্সার রোগের ঝুঁকি কমিয়ে দেবে। তাছাড়া এর মধ্যে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন, যা কিনা আপনার শরীরের মধ্যে তার হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে দিবে। খাওয়ার ফলে আপনার শরীরের ওজন হ্রাস পেতে থাকবে। তাছাড়া আপনার যদি আলসার কিংবা বদহজম হয়ে থাকে তাহলে আপনি যদি মুলা খান এক্ষেত্রে সেটি খুব সহজেই দূর হয়ে যাবে। 

মুলা খাওয়ার ফলে এটি আপনার আর্থাইটিস সহ বিভিন্ন রকমের কোষ্ঠকাঠিন্য জাতীয় সকল রোগ দূর হয়ে যাবে। মুলা খাওয়ার ফলে আপনার দৃষ্টিশক্তি বাড়বে এবং ত্বকের সৌন্দর্য অনেকটা পরিবর্তন হয়ে যাবে। অর্থাৎ মুলা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি খাবার।

বাঁধাকপি
শীতের টাটকা অন্যতম একটি খাবার হল বাঁধাকপি। আপনি এই সবজিটা রান্না করে খেতে হবে। কেননা এই সবজিটি কাঁচা খাওয়া যায় না। আর এই শব্দটার মধ্যে রয়েছে উচ্চ মানের পুষ্টি উপাদান এবং যা কিনা খেতে অনেকটা সুস্বাদু। বাঁধাকপির মধ্যে রয়েছে ভিটামিন সি এবং ভিটামিন ই। 

এবং এর পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে সালফার এবং খনিজ উপা্দান। তাছাড়া আপনার পাকস্থলীর সকল বর্জ্য পরিষ্কার করতে কাঁচা বাঁধাকপি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এক ধরনের খাবার। আপনার এটি বদহজম কিংবা আলসার দূর করতে খুবই সহায়তা করে। এবং আপনারা যদি প্রচুর পরিমাণে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়ে থাকে, 

আপনার বাঁধাকপি খাওয়ার ফলে এটি আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে দারুন কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। বাঁধাকপি খাওয়ার ফলে এটি আপনার ক্যান্সার রোগ প্রতিরোধ করে এবং কোলন ক্যান্সার জাতীয় সকল ক্যান্সার দূর করে দেয়। এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দ্বিগুণ করে তোলে।

সিম
সিম সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর এক ধরনের খাবার এবং এটাকে বলা হয় আমিষের উৎস। কারণ সবজি হিসেবে এবং এটি শুকনো ডাল হিসেবেও খাওয়া যেতে পারে। সিমের মধ্যে রয়েছে পরিপক্ক বীজ এবং এর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আমিষ এবং স্নেহ জাতীয় উপাদান। এই খাবারটি একটি আঁশ জাতীয় খাবার এটি যদি আপনি খান সহজেই কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে দিবে। 

এবং এটি হার হলে আপনার ডায়রিয়ার প্রকোপ কমিয়ে দিবে। এবং আপনার রক্তের মধ্যকার কোলেস্টেরলের মাত্রা কে দ্বিগুণ করে তুলবে অর্থাৎ বাড়িয়ে তুলবে। এবং এর পাশাপাশি আপনার হৃদরোগের ঝুঁকিকে কমিয়ে দিবে। তাছাড়া অনেক সময় মেয়েদের লিউকেমিয়া, রোগ সহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে থাকে এই শিম।

ধনেপাতা
শীতকালীন অন্যান্য সবজিগুলার মধ্যে ধনে পাতা এক ধরনের সবজি। এটার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ এবং ফলিক এসিড, যা কিনা আপনার ত্বকের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি খাওয়ার ফলে এই ভিটামিন গুলো আপনার শরীরের বিভিন্ন রকমের পুষ্টি যোগাবে এবং চুলের সকল ক্ষয় কে রোধ করে দিবে। 

এবং এটি আপনার মুখের মধ্যকার যে ক্যান্সার হয়ে থাকে এ সকল ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করে থাকবে। এছাড়াও ধনেপাতা আপনার রক্ত পরিষ্কার করতে এবং নতুন করে রক্ত তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাছাড়া ধনে পাতার মধ্যে রয়েছে ভিটামিন সি আর ভিটামিন সি তে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অর্থাৎ ভরপুর এন্টিঅক্সিডেন্ট। যা কিনা নানারকম ঔষধি কার্য করতে থাকে।

তো আশা করি বুঝতে পেরেছেন শীতকালীন কিছু সবজির নাম এবং এই সকল সবজিগুলো আর কি কি উপকারিতা, এবং শীতকালীন ফলের উপকারিতা কি সম্পর্কে।

শীতকালীন ফলের উপকারিতা

শীতকালীন বিভিন্ন রকমের ফল রয়েছে যেগুলা প্রায় আমরা কমবেশি খেয়ে থাকি, যেমন জলপাই আমলকি বরই এছাড়াও রয়েছে ডালিম সফেদা এ সকল ফলগুলো আমরা মূলত শীতকালে খেয়ে থাকি। আসলে শীতকালীন যে সমস্ত ফলগুলো রয়েছে এ সকল ফলগুলো খেলে এগুলো আপনার শরীরের বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন এর ঘাটতি গুলোকে পূরণ করে দেবে, 
শীতকালীন ফলের উপকারিতা - শীতকালের ফুলের নাম
এবং আপনার স্বাস্থ্য কে করে তুলবে সুস্বাস্থ্যকর। আর তাছাড়া ও এমনিতেই যদি আপনি বিভিন্ন রকমের ফলগুলো খান এতে করে আপনার শরীরে ভিটামিন সি এর ঘাটতি পূরণ করে দেয়। সে ক্ষেত্রে যদি আপনি শীতকালীন এই সমস্ত ফলগুলা খান যেমন ধরেন ডালিম, এটি যদি আপনি খান এতে করে আপনার শরীরের বিভিন্ন ধরনের রক্ত পরিশোধ দিতে হবে, 

এবং নতুন নতুন রক্ত তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে ডালিম। তো আশা করি যদি আপনারা শীতকালীন ফল খেতে পারেন এটা করে আপনার শরীরের বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও বৃদ্ধি পাবে আপনার ত্বক সুন্দর হবে এবং এর পাশাপাশি আপনার মস্তিষ্কে নতুন নতুন কার্যকরী চিন্তাভাবনা গুলো চালু হতে থাকবে। 

আশা করি বুঝতে পেরেছেন শীতকালীন ফলের কি কি উপকারিতা হয়েছে এ সম্পর্কে এবং এর পাশাপাশি শীতকালীন কিছু সবজির নাম এবং এর তালিকা সম্পর্কে।

শেষ কথা

তো প্রিয় পাঠক মন্ডলী, আশা করছি যে আজকের আমাদের পুরো পোস্টটি আপনাদের কাছে ভালো লেগেছে কেননা এখানে আজকে আপনাদেরকে জানানো হয়েছে শীতকালীন ফলের উপকারিতা এবং এর পাশাপাশি শীতকালীন কিছু ফুলের নাম শীতকালীন কিছু সবজির নাম এবং এ সকল সবজিগুলা খেলে আপনি কি কি উপকারিতা লাভ করতে পারেন, 
বা আপনার শরীরে কোন কোন ভিটামিনের ঘাটতি গুলো পূরণ করতে পারে, এই সমস্ত বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন আশা করি আপনারা অনেকটা উপকৃত হয়েছেন। সুতরাং আজকের পোস্টটি যদি আপনাদের কাছে ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানিয়ে দিবেন। এবং এর পাশাপাশি আপনাদের কি কি সম্পর্কে জানা দরকার এ সকল বিষয়গুলো কমেন্ট করে জানাবেন, 

তাহলে ইনশাল্লাহ চেষ্টা করব পরেরবার থেকে ওই সমস্ত বিষয়গুলো নিয়েই আপনাদের সামনে পোস্ট নিয়ে আসার। সুতরাং আপনারা এই পোস্টটি আপনাদের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন যেন তারা উপকৃত হতে পারে। আজকের মত আপনাদের সুস্থতা কামনা করে এখানে শেষ করছি সকলের ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন। খোদা হাফেজ"

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ব্লগার জাফর সাহেবের নিতিমালা মেনে কমেন্ট করুন

comment url