বিদ্যুতের ব্যাকআপ হিসেবে কোনটি ভালো?

প্রিয়া পাঠক মন্ডলী আজকে আপনারা জানবেন যে বিদ্যুতের ব্যাকআপ হিসেবে কোনটি ভালো? অর্থাৎ বর্তমান সময়ে দেখতে পাচ্ছেন যে মানুষ বিদ্যুতের জন্য খুবই হাই হুতাশ করতেছে। কারণ বিদ্যুৎ কখন যায় আবার আসে এর কোন গ্যারান্টি নাই। সুতরাং বিদ্যুতের ব্যাকআপ হিসেবে আমরা কোনটি ব্যবহার করতে পারি বা কোনটি আমাদের জন্য ভালো হবে চলুন জেনে নিই
বিদ্যুতের ব্যাকআপ হিসেবে কোনটি ভালো?

বিদ্যুতের ব্যাকআপ হিসেবে কোনটি ভালো? অর্থাৎ আপনি আইপিএস ব্যবহার করবেন কিনা জেনারেটর ব্যবহার করবেন বা সোলার ব্যবহার করবেন কোনটি ব্যবহার করলে কেমন সুবিধা পাবেন? এ সকল বিষয় সম্পর্কেই বিস্তারিত ভাবে জানতে হলে আমাদের আজকের এই পোস্টটি সম্পূর্ণটা মনোযোগ দিয়ে পড়তে থাকুন।

বিদ্যুতের ব্যাকআপ হিসেবে কোনটি ভালো?

আমাদের প্রতিদিনের জীবনের সাথে বিদ্যুৎ এর ব্যবহার ওতপ্রোতভাবে জরিয়ে আছে। বিদ্যুৎ ছাড়া জনজীবন প্রায় অচল বলা যায়। আমরা নিয়মিত যা কাজ করি তার প্রায় প্রত্যেক কাজের মধ্যে বিদ্যুতের ভুমিকা অপরীসীম। কিন্তু আমাদের দেশের মধ্যে বিদ্যুতের নিরবিচ্ছিন্ন সংযোগ পাওয়া কঠিন মাঝে মধ্যে লোড-শেডিং এর সম্মুখীন হতে হয়। 
এখন লোড শেডিং এর হাত থেকে রক্ষা পেতে বিভিন্ন সময় আমরা বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকি। এর মধ্যে আইপিএস, জেনারেটর এবং সোলার সিস্টেম উল্লেখযোগ্য। নিম্নে এই তিন ব্যাকআপ পদ্ধতির কোনটি আপনার জন্য সহায়ক হবে এই ব্যাপারে সংক্ষিপ্ত ধারণা দেওয়া হ’লঃ-

আইপিএস

আইপিএস হচ্ছে এমন একটি বৈদ্যুতিক সরবরাহ সিস্টেম যা বিদ্যুতের লোড শেডিং হওয়া মাত্রই অতি অল্প সময়ের মধ্যে দিদ্যুতের সরবরাহ করতে পারে। সাময়ীক সময়ের জন্য বিদ্যুতের বন্ধ হয়ে গেলে তাৎক্ষনিক ভাবে আইপিএস বিদ্যুতের প্রাইমারী ঘাটতি পুরণ করতে পারে। তবে বড় বড় প্রোজেক্ট বা কাজের জন্য আইপিএস এর ব্যবহার করা যায় না। নিম্নের আইপিএস ব্যবহারের কিছু সুবিধা উল্লেখ করা হ’লঃ-
আইপিএস ব্যবহারের সুবিধাঃ
বাসাবাড়ির জন্যঃ বাসাবাড়িতে আইপিএস ব্যবহার করাটা সবচেয়ে বেশি নিরাপদ ও ঝামেলামুক্ত। যেহেতু বাসা-বাড়িতে খুব বেশি বিদ্যুতের সরবরাহের প্রয়োজন হয় নাহ তাই অল্প বিদ্যুতের চাহিদা আইপিএস খুব ভালোভাবে পূরণ করতে পারে। আর আপিএস ব্যহারে আলাদাভাবে কোন ঝামেলা না থাকায় বাসাবাড়িতে এর ব্যবহার দিনে দিনে বেড়ে চলছে।

ছোট শোরুম/দোকানঃ দোকান কিংবা শো রুমের জন্য আইপিএস ব্যবহার করা ভালো। বারতি ঝামেলা ছাড়াই শো রুমে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের পাওয়া যায়। ফলে লোড শেডিং এর ফলে ব্যবসায় কোন ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে নাহ।

জেনারেটর

জেনারেটর হচ্ছে অতি প্রাচীনতম বিদ্যুৎ উৎপাদন একটি পদ্ধতি। অনেক আগে থেকে এখন পর্যন্ত এর ব্যবহার ও চাহিদা কোন অংশেও কমে নাই বরং দিনে দিনে আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। জেনারেটর সাধারনত জ্বালানী শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। যেসকল স্থানে বেশি পরিমানে বিদ্যুতের সরবরাহের প্রয়োজন সেসকল স্থানে জেনারেটর ব্যবহার হয়। 

যদিও দামের দিক থেকে জেনারেটরের দাম বেশি কাজের দিক থেকেও এর সাপোর্ট অন্যান্য ব্যাকআপ সিস্টেম থেকে বেশি। একটানা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত জেনারেটর কাজ করতে পারে। বাংলাদেশের মধ্যে যে সকল স্থানে জেনারেটরের ব্যবহার করা হয় তা হচ্ছেঃ

বাসা বাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য: জেনারেটর বিদ্যুৎ লোড শেডিং এর সময় বাসস্থান এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে। জেনারেটর দ্বারা তৈরি বিদ্যুৎ শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ডিভাইস চালু রাখা যাবে। অধিক মাত্রায় বিদ্যুতের সরবরাহ পেতে হলে ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে জেনারেটর কিনতে হবে।

জরুরি সার্ভিসের জন্য: বাংলাদেশে হাসপাতালের মতো আরো কিছু কিছু জরুরী সেবার প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখানে অল্প কিছু সময় বিদ্যুৎ এর সমস্যা দেখা দিলে বড় রকমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। জেনারেটর হাসপাতাল এবং জরুরি পরিষেবাগুলির জন্য জীবন বাঁচানোর বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে, বিশেষ করে যখন বিদ্যুৎ এর দীর্ঘস্থায়ী লোড শেডিং দেখা দেয়।

অতি গ্রামীণ এলাকায়: জেনারেটর গ্রামীণ এলাকায় বসবাসকারীদের বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে যেখানে বিদ্যুৎ গ্রিডের অ্যাক্সেস নেই। ফলে বৈদ্যুতিক বাতি, ফ্যান, রেফ্রিজারেটরের মতো অন্যন্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করা যায়।

নির্মাণ কাজের স্থানে: নির্মাণ স্থানে প্রার্থমিক পর্যায়ে বিদ্যুতের সংযোগ থাকে না ফলে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য দিনে এবং রাতে কাজ করা হয়। এমন পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে জেনারেটরের বিকল্প নেই।

সোলার প্যানলে

সোলার প্যানেল হচ্ছে মর্ডান বা আধুনিক বিদ্যুতের উৎস হিসেবে ধরা হয়। শতভাগ নিরাপদ ও পরিবেশ বান্ধব সোলার বিদ্যুৎ। বর্তমানে সোলার বিদ্যুৎ বাসা বাড়ীর বাহিরেও শিল্পকারখানা, বড় বড় এপার্টম্যান্ট, গভীর নল্কুপ থেকে পানির তোলে কৃষি কাজে সাহায্য করাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছে। সোলার বিদ্যুৎ ব্যবহারে আমাদের সমাজ ও জীবন ব্যবস্থার উপর কিরূপ প্রভাব পরে তা হচ্ছেঃ-

পরিবেশগত সুবিধা: সোলার প্যানেল সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করে, যা একটি নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস যা কখনো শেষ হবে না। সোলার প্যানেল ব্যবহার করে জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে কার্বন ডাই অক্সাইডের নির্গমন কমাতে সাহায্য করে। শুধুমাত্র সোলার প্যানেলেই কোনো দূষিত পদার্থ নির্গত করে না ফলে বায়ু দূষণ কমাতে সাহায্য করে।

আর্থিক সুবিধা: লোডশেডিং এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় সোলার প্যানেল আপনাকে ব্যাকআপ হিসেবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। এছাড়াও সরাসরি বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে সরাসরি সোলার প্যানেলও ব্যবহার করা যায় ফলে শুরতে খরচ কিছুটা বেশি হয়। সোলার প্যানেল আপনার নিজস্ব বিদ্যুৎ তৈরি করে, যার ফলে আপনার বিদ্যুৎ বিল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
অন্যান্য সুবিধাসমূহঃ সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আপনি জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব বিদ্যুৎ তৈরি করতে সাহায্য করে। সোলার প্যানেলগুলি তুলনামূলকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা সহজ এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়। সোলার প্যানেল কোনো শব্দ তৈরি করে না, যা শব্দ দূষণ কমাতে সাহায্য করে।
উপরোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সঠিক ব্যাকআপ সিস্টেম ক্রয় করলে আপনি সঠিক ডিভাইসটি আপনার জন্য শনাক্ত করতে পারবেন।

সর্বশেষ পরামর্শ:বিদ্যুতের ব্যাকআপ হিসেবে কোনটি ভালো

প্রিয় পাঠক মন্ডলী আশা করছি আমাদের আজকের এই পোস্টটি আপনাদের কাছে ভালো লেগেছে। অর্থাৎ আমাদের আজকের এই পোস্টটি পড়ে আপনারা জানতে পারলেন যে বিদ্যুতের বেকার হিসেবে কোনটি ভালো। এবং এটা পড়ে আপনারা এটাও জানতে পারলেন যে আপনারা এখন কোনটা ব্যবহার করলে সুবিধা পাবেন এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ এর হাত থেকে বেঁচে যাবেন। সুতরাং আমাদের আজকের এই পোস্টটি যদি আপনাদের কাছে ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্টে মন্তব্য করে জানিয়ে দিবেন। এবং এই পোস্টটি আপনারা বেশি বেশি শেয়ার করবেন যেন, অন্যরাও উপকৃত হতে পারে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ব্লগার জাফর সাহেবের নিতিমালা মেনে কমেন্ট করুন

comment url