ছেলেরা বিয়ে করে কিসের জন্য - বিয়ে করার বহুমুখী উপকারিতা

  

সৃষ্টি জগতের শুরুতেই মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে নারী এবং পুরুষকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন। অর্থাৎ বলতে পারেন নারী এবং পুরুষ একে অপরের পরিপূরক। পুরুষ যেমন নারী ছাড়া চলতে পারে না নারীও পুরুষ ছাড়া চলতে পারে না। এ সম্পর্কে হাদিসের মধ্যে বলা হয়েছে যে নারী পুরুষের অর্ধাঙ্গিনী, তাই নারী এবং পুরুষ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারী-পুরুষ অপূর্ণ জীবন পূর্ণ করতে একে অপরকে প্রয়োজন অনুভব করে। 
ছেলেরা বিয়ে করে কিসের জন্য - বিয়ে করার বহুমুখী উপকারিতা
আর নারী পুরুষের এই প্রয়োজন যেই মাধ্যমে পূর্ণ করা হয় সেটাকে বলা হয় নিকাহ বা বিয়ে। আর প্রিয় ভাইদের উদ্দেশ্যে বলছি, খোঁজখবর নিয়ে বিয়ে করা সুন্নত কেননা আপনি শুধু আপনার স্ত্রী বাছাই করছেন না আপনি আপনার সন্তানের মা বাছাই করছেন। তো আসুন নিচে জেনে আসি কিভাবে সঠিক নিয়মে বিয়ে করা যায়।

দ্রুত বিয়ে করার উপকারিতা

  • দ্রুত বিয়ে করার অনেকগুলো উপকারিতা রয়েছে তার মধ্যে কয়েকটি উপকারিতা আপনাদের সামনে তুলে ধরা হলোঃ
  • ইসলামের নিয়মে যেনা-ব্যভিচার থেকে ফিরে থাকা যায় দ্রুত বিয়ে করলে যুবক বয়সেই আল্লাহ পাকের খুব প্রিয় হওয়া যায় এবং এবাদতে সাধ পাওয়া যায় আজেবাজে চিন্তা থাকে না।
  • আপনি যদি বয়স ৩০ পার করে বিয়ে করেন তাহলে স্বাভাবিকভাবেই আপনার বয়সের কারণে আপনার মধ্যে যে গাম্ভীর্য চলে আসবে তার জন্য সম্পর্ক খুব বেশি ঘনিষ্ঠ ও মধুর হবে না, বরং ব্যাপারটি তখন এমন হবে যে বিয়ের বিয়ে করার কথা ছিল তাই বিয়ে করেছি, এজন্য আগে থেকেই বিয়ের প্ল্যান করা উত্তম।
  • বেশি বয়সে বিয়ে করলে স্বামী স্ত্রী নিজেদের জন্য খুব বেশি সময় পান না, বরং বছর ঘুরতেই সন্তান দায়িত্ব কাঁধে এসে পড়ে আর একবার সন্তান হয়ে গেলে দুজনে একান্তে কাটানোর মত সময় হয়ে ওঠেনা তাই অল্প বয়সে বিয়ে করলে সঙ্গির সাথে একান্ত কাটানোর মত অনেকটা সময় পাওয়া যায় যার ফলে সম্পর্ক ভালো ও মধুর থাকে।
  • দ্রুত বিয়ে করলে স্বামীর স্ত্রী দুজনে মিলে জীবনের সবকিছু ভাগাভাগি করে নেওয়া যায় এবং প্রত্যেকের মানসিক ও কম অনুভব হয়।
  • মানুষের গড় আয়ু কিন্তু কমছে দিন দিন, আর আপনি দেরিতে বিয়ে করলে সন্তান মানুষ করার বিষয়টাও পিছিয়ে যেতে পারে এবং আপনার মানসিকতাও কিন্তু দিন দিন নষ্ট হয়ে যেতে পারে তাই একটু পর তাই দ্রুত বয়সে বিয়ে করলে সন্তানের জন্য খুব ভালো পিতা উদাহরণ হতে পারবে আপনি।
  • বিভিন্ন কারণে অনেকেই সঠিক সময়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না, তাই এখন ডিভোর্সের সংখ্যাও অনেক বেড়ে গেছে আর অল্প বয়সে বিয়ে করে যদি অল্পতেই কোন কারণে ভেঙে যায় তাহলে দুইবার আবার গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায় কিন্তু দেরিতে বিয়ে করলে সেটা সম্ভব হয়ে ওঠেনা।

ছেলেরা বিয়ে করে কিসের জন্য

  • যৌবনের হেফাজতের জন্য।
  • শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য
  • তার সমস্ত কাজে কেউ একজন পাশে থাকুক এজন্য
  • তার অসুখ-বিসুখে এবং তার বিপদ-আপদে কেউ একজন তার পাশে থাকুক এজন্য তার বংশবৃদ্ধি করার জন্য অর্থাৎ তারপরে যেন তার বংশধর থাকে এজন্য।
  • বৃদ্ধ বয়সে কেউ একজন তার পাশে থাকুক এজন্য।
  • তার শারীরিক চাহিদা পূরণের জন্য ছেলেরা বিয়ে করে।
  • আর সর্বোপরি কথা হল কোন একজন সৎ যুবক কখনো বিয়ে না করে থাকবে না কারণ বিয়ে করার মাধ্যমে তার এবাদতে সে স্বাদ পায়। আর বিয়ে না করা পর্যন্ত কোন ব্যক্তি এবাদতে শান্তি পাবে না।
  • তার বাবা মার দেখাশোনা করার জন্য অর্থাৎ সে তো সবসময় বাসায় থাকে না এজন্য তার বাসায় তার মা-বাবার দেখাশোনা করার জন্য সে বিয়ে করে।

বিয়ে করার বহুমুখী উপকারিতা

বিয়ে করার মাধ্যমে গুনাহ ও পাপাচার থেকে নিজেকে সংবরণ করার মাধ্যমে নারী পুরুষ উভয়ে ঈমান, ইসলাম ও সতীত্ব রক্ষা করতে পারে।
  1. বিয়ে করার মাধ্যমে নারী জাতির রক্ষণাবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধান হয়।
  2. এই বিয়ের মাধ্যমে নারীর সম্মানজনক জীবিকা জীবন জীবিকা সরবরাহ সহজ হয়।
  3. বিয়ের মাধ্যমে একজন পুরুষ আমানতদার এবং নির্ভরযোগ্য সঙ্গীনি লাভ করে।
  4. একমাত্র বিবাহের মাধ্যমেই বৈধপন্থায় মানব বংশের বিস্তার হয়।
  5. বিবাহের মাধ্যমেই সৃষ্টি জগত স্বভাবজাত যেই যৌন চাহিদা পূরণের বৈধ ও নিরাপদ ব্যবস্থা করে দেয়।
  6. বিবাহের মাধ্যমে নারী পুরুষ ও ভয়ের মানসিক স্বস্তি ও তৃপ্তি এবং প্রফুল্ল অর্জন হয় যা এই বিয়ে ছাড়া অন্য কোন মাধ্যমে সম্ভব হয় না।
  7. নবীজি (সাঃ) সহ সব নবীর একটি মহৎ উদ্দেশ্য সুন্নত বাস্তবায়ন হলো বিয়ে।(মুসলিম, হাদিসঃ১৪০০)
  8. মানব শিশু তার তাদের প্রকৃত পরিচয় লাভ করে সঠিক লালন-পালন ও পৃষ্ঠপোষকতার ওপর।
  9. বিয়ের দ্বারাই রিজিকে বরকত ও জীবনে প্রচুর প্রাচুর্য আসে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেন'; তোমরা বিয়ে করো তোমাদের কাছে সম্পদ ওরাই টেনে আনবে।'( মুসনাদে বাজার, হাদিসঃ১৪০২)
  10. অবাধ ও অবৈধ যৌনতা এইডস এর মত মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার পথ খুলে দেয় আর সেটা বিবাহ করা তে মানুষকে পরিত্রান দেয়।
  11. একমাত্র দিয়েই মানুষকে সংসারী করে তোলে ফলে পুরুষরা দায়িত্ব সচেতন ও কর্মমুখী হয় ।ভোগের মানসিকতা পুরুষদের মধ্য থেকে দূর হয়ে যায় তদ্রূপ নারীরাও দায়িত্ব সচেতন ও বাস্তবমুখী হয়।
  12. স্বামী এবং স্ত্রী একে অন্যকে উৎসাহ দিয়ে সুন্দর একটা পৃথিবী বিনির্মাণের পথ সুগম করে। আর রাসুল সাঃ এর নবুওয়াত লাভের সময় আকস্মিক পরিপ্রাপ্তিতে ভয় পেলে খাদিজা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তাকে অভয় দেন এবং তার পাশে থাকার ঘোষণা দেন।

দ্রুত বিয়ে না করার অপকারিতা

  • আপনি কোন প্রকার ইবাদতে স্বস্তি পাবেন না। বিয়ে না করলে
  • মহান আল্লাহ তায়ালার হুকুম দ্রুত বিয়ে করা আপনি দ্রুত বিয়ে না করলে আল্লাহর হুকুম লংঘন করলেন।
  • দ্রুত বিয়ে না করলে আপনার জীবনের শান্তি ও আসবে না।
  • দ্রুত বিয়ে না করলে আপনার সংসারের দেখাশোনা করার মতন কোন লোক থাকবে না।
  • আপনার প্রাপ্ত বয়স হওয়ার পরেও যদি আপনি বিয়ে না করেন তাহলে আপনি আপনার কোন কাজে বরকত পাবেন না।
  • দ্রুত বিয়ে করলে না আপনি যদি কোন চাকরি বা কোন প্রকার ব্যবসা করেন এই ব্যবসায় আল্লাহ তা'আলা বরকত দিবেন না।
  • দ্রুত বিয়ে না করার অপকারিতা হল আপনি আপনার লজ্জাস্থানের যৌবনের হেফাজত করতে পারবেন না
  • দ্রুত বিয়ে না করলে আপনি অনেক রকমের অনৈতিক কর্মে লিপ্ত হয়ে যেতে পারেন।

সর্বশেষ পরামর্শ

আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের হুকুম বা আদেশ এটা আমাদের জন্য আমাদের সকলের জন্য মানা ওয়াজিব। এজন্য আল্লাহতালার হুকুম যেরকম মানা ফরজ তেমনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর সুন্নাহ মোতাবেক জীবন যাপন করাও একটা মুসলিমের কর্তব্য। এবং রাসূল যেভাবে তার জীবন যাপন করেছেন যেভাবে তিনি তার জীবনে চলাফেরা করেছেন। 

যে রকম ভাবে তিনি বিবাহয় আবদ্ধ হয়েছেন যেই বয়সে আবদ্ধ হয়েছেন আমাদেরকেও ঠিক তেমনিভাবে রাসুল যেই পথে চলেছেন আমাদেরকেও সেই পথে চলতে হবে তাহলে দুনিয়াতেও কল্যাণ এবং আখেরাতেও কল্যাণ। আল্লাহতালা আমাদের সকলকে বোঝার তৌফিক দান করুক আমিন। আশা করি আমার কথাগুলো আপনাদের কাছে ভালো লাগলো। আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ব্লগার জাফর সাহেবের নিতিমালা মেনে কমেন্ট করুন

comment url